লাটু মহারাজ বলতেন : “অন্নকূটের প্রসাদ ধারণ করলে অন্নবস্ত্রের কষ্ট থাকে না।”

শিবগুরু জগদ্‌গুরু “গভীর রাত্রি। কৃষ্ণপ‌ক্ষের চতুর্দশী তিথি। চারিদিক অন্ধকার! জীবজন্তু সকলেই নিস্তব্ধ। “গৈরিক বস্ত্রধারী, এই কৌমারবৈরাগ্যবান ভক্তগণের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘শিবগুরু! শিবগুরু!’ এই মহামন্ত্রধ্বনি মেঘগম্ভীররবে অনন্ত আকাশে উঠিয়া অখণ্ড সচ্চিদানন্দে লীন হইতে লাগিল! “পূজা সমাপ্ত হইল : অরুণোদয় হয় হয়।” শ্রীম-র এই বিবরণ থেকে জানা যায়—২১ ফেব্রুয়ারি ১৮৮৭, সোমবার শিবরাত্রির দিন মাস পাঁচেক স্থাপিত হওয়া বরানগর মঠের তাপসগণ সকলে উপবাস করে আছেন, রাখাল ও তারক নরেন্দ্রের সদ্য বাঁধা ‘তাথৈয়া তাথৈয়া নাচে ভোলা’ গানটি একযোগে গেয়ে নৃত্য করেছেন, শশী দিনরাত ঠাকুরের সেবারত, পূজাশেষে শরৎ তানপুরা সহযোগে গেয়েছেন—“শিব শঙ্কর বম্‌ বম্‌ (ভোলা), কৈলাসপতি মহারাজরাজ!” নরেন্দ্র গঙ্গাস্নান করে এলে সারদাপ্রসন্ন তাঁকে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেছেন। অপরাহ্ণে মঠের সামনে বেলতলায় শিবপূজার জন্য বেলকাঠ ও বেলপাতা আহৃত হয়েছে—পূজা চারপ্রহর জুড়ে, পূজান্তে হোম হবে। গীতাপাঠান্তে কালী শান্তিবাদ করলে নরেন্দ্র প্রমুখ নৃত্যগীত করতে করতে বারবার বেলতলা পরিক্রমণ করেছেন, সমস্বরে উচ্চারিত হয়েছে—‘শিবগুরু’! ‘শিবগুরু’! শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত অনুসারে ‘সচ্চিদানন্দই গুরু’, যে-গুরু সম্পর্কে প্রাজ্ঞজনের লেখনী—“…গুরুর মধ্যে পরস্পর-বিরুদ্ধ দুটো সত্তা থাকে—রুদ্ররূপ আর শিবরূপ, ভয়ংকর রূপ এবং মধুর রূপ। শিবরূপের প্রকাশে গুরু শান্ত, করুণামূর্তি। রুদ্ররূপের প্রকাশে গুরু প্রদর্শন করেন রূঢ়তা, নিরুত্তাপ কঠোর উদাসীনতা।”১ খুব সম্ভবত এই সেই বেলতলা, যেখানে শ্রীরামকৃষ্ণের সন্ন্যাসী পার্ষদগণের অধিকাংশই প্রথাগত সন্ন্যাস নিয়েছিলেন আর অরুণোদয়ে নবগৈরিক-ভূষিত চতুর্বিংশতিবর্ষীয় যতি নরেন্দ্রনাথের মধ্যে কথামৃতকার ‘অখণ্ড সচ্চিদানন্দ-সাগরের একটি ফুট’ দেখেছেন; বিবরণ শেষে তিনি লিখেছেন : “ভক্তেরা জয়ধ্বনি করিতেছেন।—‘জয় গুরু মহারাজ! জয় গুরু মহারাজ!’”২ এরপর ফাল্গুন শুক্লা দ্বিতীয়াতে শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্মতিথি উদ্‌যাপিত হয় অষ্টপ্রহরব্যাপী পূজার মাধ্যমে, যাঁর সান্ধ্য আরাত্রিকে মঠের তাপসগণ গাইতেন কাশীধামে প্রচলিত “জয় শিব ওঁকার, ভজ শিব ওঁকার। ব্রহ্মা বিষ্ণু সদাশিব! হর হর হর মহাদেব”—নরেন্দ্রনাথের প্রেরণায়, শশী ও গঙ্গাধরের সহযোগে ও উদ্যোগে।৩ বরানগরের পূর্বে কাশীপুরে ছিল ‘প্রথম মঠ’ এবং বরানগরের পরে মঠ উঠে আসে আলমবাজারে। এই দুই মঠের দুটি দৃশ্য-কাহিনি ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা উপস্থাপন করা যাক। গভীর রাত্রে অনেকের মাঝে কাশীপুরের বড় হলঘরে তারকনাথ দেখেন—পাশেই শুয়ে থাকা নরেন্দ্রনাথের...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹120/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in