স্বামী বিবেকানন্দ লিখেছেন : “যখন বাস্তবিক বাহ্য ও অন্তর—উভয় প্রকার শৌচ সিদ্ধ হয়,
শ্রীমৎ বিদ্যারণ্য স্বামী [পূর্বানুবৃত্তি : পৌষ সংখ্যার পর]।।৪।। পতঞ্জলি বলেছেন : “শৌচাৎ স্বাঙ্গজুগুপ্সা পরৈরসংসর্গঃ।”২৮ অর্থাৎ, শৌচে প্রতিষ্ঠিত হলে নিজের ও সেইসঙ্গে পরের শরীরের প্রতি আসক্তি চলে যায়। এই সূত্রটির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ লিখেছেন : “যখন বাস্তবিক বাহ্য ও অন্তর—উভয় প্রকার শৌচ সিদ্ধ হয়, তখন শরীরের প্রতি অযত্ন আসে; কিসে উহা ভাল থাকিবে, কিসেই বা উহা সুন্দর দেখাইবে, এ-সকল ভাব একেবারে চলিয়া যায়। অপরে যে মুখ অতি সুন্দর বলিবে, তাহাতে জ্ঞানের কোন চিহ্ন না থাকিলে যোগীর নিকট তাহা পশুর মুখ বলিয়া প্রতীয়মান হইবে। জগতের লোক যে মুখে কোন বিশেষত্ব দেখে না, তাহার পশ্চাতে চৈতন্যের প্রকাশ থাকিলে তিনি তাহাকে স্বর্গীয় মনে করিবেন। এই দেহতৃষ্ণা মনুষ্যজীবনে সর্বনাশের কারণ। সুতরাং শৌচ-প্রতিষ্ঠার প্রথম লক্ষণ এই যে, তুমি নিজে একটি শরীর বলিয়া ভাবিতে চাহিবে না। আমাদের মধ্যে যখন এই শৌচ বা পবিত্রতা আসে, তখনই আমরা এই দেহ-ভাব অতিক্রম করিতে পারি।”২৯ অর্থাৎ আলোচ্য শ্লোকে প্রার্থনা করা হচ্ছে—‘আমি যেন এরকম শৌচ-সংস্কারকে দৃঢ় করতে পারি।’ আর ‘সংস্কৃতে’র জায়গায় ‘সংস্মৃতে’ গ্রহণ করলে অর্থ হয় যে, শরীরভাবনা সম্পর্কিত উপরি-উক্ত দোষগুলিকে স্মরণ করে যেন আমি দেহভাবকে অতিক্রম করতে পারি। অষ্টম শ্লোক : ত্রিতাপনিবৃত্তির উপায়, শত্রুমিত্রে সমভাব রক্ষার সাধন, পরকথা শ্রবণ-জনিত বিক্ষেপ দূর করার উপায়, ধিক্কারশ্রবণজনিত সন্তাপ ত্যাগের উপায়, তাড়না-অত্যাচার প্রভৃতি সহ্য করার উপায়— অধ্যাত্মাদিভবং সদা ত্যজ মনস্তাপং স্বভাবেক্ষণাৎবৈষম্যং সমভাবতঃ পরকথাবিক্ষেপমক্ষোভতঃ।ধিক্কারাভিভবন্তু দুঃখমনিশং তদ্যোগ্যতাভাবনাৎতজ্জ্ঞাতজ্জ্ঞশিশূন্ ক্ষমস্ব কৃপয়া কর্মক্ষয়াত্তাড়নম্।।৮ অন্বয়—মনঃ (হে মন)! স্বভাবেক্ষণাৎ (স্বস্বরূপ অর্থাৎ আত্ম-দর্শনের বলে [বলীয়ান হয়ে]) অধ্যাত্মাদি-ভবং (আধ্যাত্মিক প্রভৃতি [আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক-সহ] দুঃখসঞ্জাত) তাপং (তাপ বা জ্বালা) সদা ত্যজ (সর্বদা ত্যাগ বা নিবৃত্ত কর/ প্রশমিত কর), সম-ভাবতঃ (সমদর্শনের দ্বারা [এক ব্রহ্মই জীব ও জগৎ-রূপে প্রতীয়মান হচ্ছেন—এটিই হলো সমভাবনা]) বৈষম্যম্ ([এটি ভাল, ওটি মন্দ—এরকম] বৈষম্যবুদ্ধি [ত্যাগ কর]), অক্ষোভতঃ (বিচার-নিষ্ণাত চিত্তের প্রসন্নতার দ্বারা) পর-কথা-বিক্ষেপং (পরচর্চা অর্থাৎ পরের কথায় উৎপন্ন চিত্তের বিক্ষেপকে [নাশ করবে]), ধিক্কার-অভিভবং (ধিক্কাররূপ তিরস্কারপ্রাপ্তির ফলে প্রাপ্ত [‘তুমি একটি গাধা, তুমি একটি মূর্খ, তুমি একেবারেই অপদার্থ’—এরকম তিরস্কারসূচক...
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
