ভারতভূমির শেষবিন্দুতে কন্যাকুমারীর মন্দির। এক সন্ন্যাসী এসে দাঁড়িয়েছেন মাতৃদ্বারে।
ভারতভূমির শেষবিন্দুতে কন্যাকুমারীর মন্দির। এক সন্ন্যাসী এসে দাঁড়িয়েছেন মাতৃদ্বারে। মুখমণ্ডলে সহস্র আচার্যের প্রজ্ঞা, আয়ত লোচনকমলে সমাধিমানের দৃষ্টি। ব্যক্তিত্বেই তাঁর ত্যাগের সার্থকতা। তবু ললাটে কেন বহুযুগের চিন্তারাশি! আত্মতৃপ্ত যতির কোথায় অতৃপ্তি? কীসের এক সন্ধানে সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন তিনি। প্রমত্ত সাগরে উত্তাল-তরঙ্গ, প্রস্তরময় ছোট-বড় দ্বীপ, ক্রীড়ারত ক্ষুধার্ত হাঙরকুল। কিন্তু উন্মত্ত সমুদ্রের চেয়েও বিক্ষুব্ধ আলোড়ন সন্ন্যাসীর মনে। তাই ভ্রুক্ষেপ নেই। সহস্র বছরের অন্ধকার ভেদ করার ডাক শুনেছেন তিনি। সাঁতরে উঠলেন একটি বড় শিলায়। ধ্যানে বসলেন। বলা ভাল, আগামী ভারতের ভাগ্যগাথা সংকলনে একাত্ম হলেন। বিষাদজর্জর দেশের আত্মশ্রদ্ধাহীনতা, অধ্যাত্মবিমুখতা এবং অন্ধ পরানুকরণপ্রিয়তার সমাধানে এবার আলোর দিশা ফুটে উঠল। ভারতের গৌরবোজ্জ্বল অতীত, হীনবীর্য বর্তমান ও মহামহিমময় ভবিষ্যতের সব কয়টি পৃষ্ঠা খুলে গেল। বোধে অনুভব করলেন, আধ্যাত্মিকতাতেই লুকিয়ে আছে দেশের উন্নতি ও আত্মবলের বীজ। ধর্মকে গতিশীল কর্মে ও কর্মকে ভগবল্লাভের উপায়ে পরিণত করার ব্রতে তিনি আসন ছাড়লেন। মুখে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অনন্য প্রশান্তি। ততক্ষণে তিনটি রাত পেরিয়েছে। ভারতের আকাশ অরুণোদয়ের আলোয় রঞ্জিত। সূর্যের জ্যোতি নিয়ে সেই যতি বিবেকানন্দ হয়ে বেরিয়ে আসছেন।
Read the Digital Edition of Udbodhan online!
Subscribe Now to continue reading
₹120/year
Start Digital SubscriptionAlready Subscribed? Sign in
