শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত-এর একটি অসামান্য দৃশ্য : ১৪ সেপ্টেম্বর ১৮৮৪, ভাদ্র কৃষ্ণা দশমী তিথি। আগের দিনই দেবীর পূজার প্রথম কল্পের সূচনা হয়েছে। মহালয়া এখনো পাঁচদিন বাকি। শরৎকাল। পশ্চিম আকাশে সূর্য ডুবু ডুবু। দক্ষিণেশ্বরে তাঁর ঘরের পশ্চিমের গোল বারান্দাকে পিছনে রেখে গঙ্গার বাঁধানো পোস্তার ওপরে দাঁড়িয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ। সমাধিস্থ। সঙ্গে শ্রীম। সামনে উত্তরবাহিনী গঙ্গা—জোয়ার এসেছে। পিছনে ফুলের বাগান, ডানদিকে নহবত ও পঞ্চবটী। একটু আগেই হাজরা মহাশয় এসে শ্রীরামকৃষ্ণকে জানিয়েছেন : “নরেন্দ্র আগমনী গাইলে।” শ্রীরামকৃষ্ণ ব্যস্ত হয়ে জানতে চাইলেন : “কিরকম?” তারপর গেরুয়া রঙে ছোপানো একটি জামা পরতে পরতে নরেন্দ্রকে বলছেন : “তুই আগমনী গেয়েছিস?” গান শুনতে শ্রীরামকৃষ্ণ গোল বারান্দা থেকে নেমে নরেন্দ্রের সঙ্গে গঙ্গার পোস্তার ওপর এলেন। কাছে দাঁড়িয়ে গান গাইছেন নরেন্দ্র— “কেমন করে পরের ঘরে, ছিলি উমা বল মা তাই।কত লোকে কত বলে, শুনে প্রাণে মরে যাই॥” মা দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার আগমনি গান এটি—আজও বেলুড় মঠে দুর্গাপূজার প্রাক্কালে গাওয়া হয়।কলকাতার ছেলে স্বামী বিবেকানন্দ। আশৈশব বহু বনেদি বাড়ির দুর্গোৎসব দেখেছেন। দুর্গাপূজা সম্বন্ধে যে তাঁর সম্যক ধারণা ছিল, তা তাঁর লেখায় জানতে পারি—দেবীর মৃত্তিকাস্নানের উপকরণের উল্লেখ করেছেন।১ তাঁর লেখায় পটুয়াদের চালচিত্রকে বা ‘দুর্গাঠাকুরের চালচিত্রি’কে তিনি রবিবর্মা অথবা পাশ্চাত্য অনুকরণের আর্টের চেয়ে ঢের ভাল বলেছেন। স্বামীজীর দেখা কলকাতার বনেদি বাড়ির দুর্গাপূজা কেমন হতো তার আভাস পাওয়া যায় মহেন্দ্রনাথ দত্তের বর্ণনায়—“আমরা শৈশবে দেখেছি যে কলিকাতায় অনেক বাটীতে দুর্গাপূজা হইত। শাক্তের বাটীতে দুর্গার সিংহ সাধারণভাবে এবং গেঁাসাই-এর বাড়ীতে সিংহ ঘোড়ার মত মুখ হইত।… প্রতিমার আয়তন এক এক বংশে এক এক প্রকার আছে। বড়বাজারের এক বাড়ীর প্রতিমা সর্বাপেক্ষা ছোট হইত। তাহাকে আমরা পুতুল দুর্গা বলিতাম। আমরা যখন শিশু, তখন ডাকের গহনা উঠে নাই, মাটির গহনা হইত।… দুর্গাপূজায় বেশ একটা ভক্তির ভাব ছিল। বিল্ববরণ রাত্রে হইত। নব পত্রিকার স্নান হইতে শুরু করিয়া খুব একটা আনন্দ স্রোত বহিত। সন্ধিপূজায় দীপমালা হইত এবং অনেক স্ত্রীলোক হাতে বা মাথায় সরা করিয়া ধুনা...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in