স্বামী গঙ্গানন্দ ছিলেন স্বামী ব্রহ্মানন্দজীর মন্ত্রশিষ্য। ১৯০৪ সালে তিনি রামকৃষ্ণ সংঘে যোগদান করেন। ১৯২৬ সালে স্বামী শিবানন্দজী তাঁকে সন্ন্যাসদী‌ক্ষা দেন। ‘উদ্বোধন’ পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক স্বামী ধ্যানানন্দ তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন। বিভিন্ন সময়ে স্বামী গঙ্গানন্দ তাঁকে যেসকল কথা বলেছিলেন, তা হুবহু তাঁর ডায়েরিতে লিখে রাখেন। তার থেকে নির্বাচিত কিছু অংশ এখানে পরিবেশিত হলো, যা এখনো পর্যন্ত অপ্রকাশিত। পুরীতে মহারাজ (স্বামী ব্রহ্মানন্দজী) আমায় (স্বামী গঙ্গানন্দকে) বললেন : “কলিকালে সিদ্ধি হয় না কেন জানিস? ‘পরদানগ্রহণেন হস্তাঃ দগ্ধাঃ চ‌ক্ষুর্দগ্ধং পরস্ত্রীদর্শনেন।’” মহাপুরুষ মহারাজ আমায় বলেছিলেন : “We the disciples of Sri Ramakrishna—one can die for another.” তাঁদের পরস্পরের মধ্যে এত ভালবাসা ছিল! তাঁরা একজন আরেকজনকে জানতেন। শশী মহারাজ পুরীতে এলেন মহারাজকে নিতে। তিনি প্রণাম করলে মহারাজ বললেন : “শশী, আজ জগন্নাথের মঙ্গলারতি হয়েছে, দর্শন করতে যাবে না?” শশী মহারাজ বললেন : “মহারাজ, তোমাকে দেখছি; আর জগন্নাথ দর্শনে যেতে হবে? তবু তুমি যখন বলছ তখন যাব।” শশী মহারাজ, মহারাজকে কী দৃষ্টিতেই না দেখতেন! সাধুদের সেবা করলে চিত্ত শীঘ্র শুদ্ধ হয়। মহাপুরুষ মহারাজ বলতেন—বিশ বছরের কর্মগুলো দু-মাসে হয়ে যায়।শরীরে বল না থাকলে সাধন-ভজন হয় না। পরে যে ন পশ্চাত্তাপ না করতে হয় যে, ধ্যান করতে পারিনি। কাজ করবে কিন্তু ধ্যান করা চাই-ই। এখন না করলে পরে আর হবে না।রাজা মহারাজকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম : “আপনি যা বললেন তাই করব, না, বিচার করে করব?” তিনি বললেন : “বিচার করে করবি।” মহারাজ একবার বলেছিলেন : “প্রথমে লোক গুরু হয়, তারপর মনই গুরু হয়।” জিগির না থাকলে হয় না। গরমকালে রাত্রে আরতির কিছু পরেই ঘণ্টা পড়লে দুখানা রুটি রেখে দেবে। ধ্যান-জপ সেরে খেয়ে নেবে। এসব কথা কী আর বলে দিতে হয়! নিজে থেকেই মনে ওঠে। আসল কথা—ব্যাকুলতা নেই। জীবনে সুখের ভাগ কম, দুঃখই বেশি। এক গুণ সুখ তো দশ গুণ দুঃখ। বিয়েতে যত সুখ হয়, স্ত্রী মরে গেলে তার থেকে অনেক বেশি...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in