অরণ্যের গভীরে হারিয়ে গেল মৃগ। তপস্বী ব্রাহ্মণের পক্ষে মৃগ অন্বেষণ একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু দুরন্ত মৃগের বাঁকানো শিঙের মধ্যে বেকায়দায় ঝুলে আছে ঋষির অরণি আর মন্থ। তখন অগ্নির স্ফুলিঙ্গ লাভের জন্য বেশ পরিশ্রমের প্রয়োজন হতো। কাষ্ঠনির্মিত অরণি আর তার ওপর কাঠের তৈরি দণ্ড মন্থের পরস্পরের তীব্র ঘর্ষণজনিত তাপ থেকে বেরিয়ে আসত অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। তপস্বীর আশ্রম-প্রাঙ্গণে সর্বদা প্রজ্বলিত থাকত অগ্নিকুণ্ড। যার যখন প্রয়োজন হতো, অগ্নি গ্রহণ করত সেই কুণ্ড থেকেই। তাই কষ্টে অর্জিত অগ্নির তখন ছিল ভিন্ন আদর। আর সেই অগ্নি প্রজ্বলনের মাধ্যম যদি হাতছাড়া হয়ে যায় তবে তা চিন্তার বিষয় বইকি! কারণ, অগ্নি প্রজ্বলন করতে না পারলে তার অবশ্যকর্তব্য অগ্নিহোত্র লোপ পাবে। অরণি ও মন্থকে উদ্ধারের জন্য ব্রাহ্মণ দ্রুত উপস্থিত হলেন পাণ্ডবদের কাছে। দীর্ঘ বারোবছরের বনবাস প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। এরপর অজ্ঞাতবাসের দিনগুলো কোথায় অতিবাহিত হবে তা নিয়ে চিন্তিত দ্রৌপদী-সহ অন্য পাণ্ডবেরা। কাম্যকবনে বসবাসের পাট চুকিয়ে তাঁরা উপস্থিত হয়েছেন দ্বৈতবনের মধ্যে। দিনের প্রথম প্রহরে পাঁচ ভাই আহার অন্বেষণ করতে বের হবেন, এমন সময় কুটিরদ্বারে উপস্থিত সেই ব্রাহ্মণ। মৃগটিকে ধরে, খঁুজে এনে দিতে হবে অরণি ও মন্থ। ঐ দেখা যায় মৃগ ছুটে চলেছে গভীর অরণ্যের দিকে। ব্রাহ্মণের কথা শুনে একছুটে কুটির থেকে নির্গত হলেন পঞ্চপাণ্ডব। অঙ্গে কবচ বাঁধতে যেটুকু সময় লাগে। পাঁচজন একসঙ্গে ছুটে চলেন মৃগের পিছনে। বনের মধ্যে কেউ যদি পাণ্ডবদের কাছে কোনো সাহায্য ভিক্ষা করে, তত্‌ক্ষণাত্‌ তাকে সাহায্য করাই তাঁদের ধর্ম। আর একটি মৃগ ধরে দেওয়া কী এমন ব্যাপার! পঞ্চপাণ্ডব মৃগের পিছে পিছে ছুটে চলেন, অবশেষে প্রবেশ করেন দ্বৈতবনের গভীরে। বন গভীর থেকে গভীরতর হয়, কিন্তু মৃগ যেন মায়াময়, ধরি ধরি করেও তাকে ধরা যায় না! একসময় তা চোখের বাইরে চলে যায়। পঞ্চপাণ্ডব হতাশ হয়ে বসে পড়েন, এরকম তো আগে কখনো হয়নি! তবে আজ ঋষির অরণি সংগ্রহে ব্যর্থ হলেন কেন? সকলে একটি মৃগের পিছনে ছুটেই বা এত ক্লান্ত হলেন কী করে?...

Read the Digital Edition of Udbodhan online!

Subscribe Now to continue reading

₹80/year

Start Digital Subscription

Already Subscribed? Sign in